[{"content":"কয়েকদিন আগেই চন্দ্রযান - ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে ল্যান্ড করেছে। কিন্তু আমি একটা খবর তোমাদের\nচুপিচুপি জানিয়ে রাখি শোনো: চাঁদে যাওয়ার জন্যে কোনো মহাকাশযান দরকার নেই, সামান্য একটা কাগজ হলেই যথেষ্ট। সত্যি সত্যিই চাঁদে যাওয়া যাবে না; কিন্তু কাগজটা যদি মোট বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করা হয়, তাহলে সেটা এতটাই মোটা হয়ে যাবে, যাতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বকে ছাড়িয়ে যাবে।\nকথাটা ঠিক বিশ্বাস হলো না, তাইতো? তাহলে হিসেবটা করেই দেখা যাক।\nএকটা কাগজ নিলাম। যে কোনো সাধারন কাগজ হলেই চলবে। লেখালেখি করার যে কাগজগুলো বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলো মোটামুটিভাবে 0.010.010.01 সেন্টিমিটার পুরু হয়। আমরা প্রথমে ওই কাগজটা একবার ভাঁজ করলাম। তাহলে এখন কাগজটা 0.01×20.01 \\times 20.01×2 সেন্টিমিটার =0.02= 0.02=0.02 সেন্টিমিটার পুরু হলো। আবার একবার ভাঁজ করলে 0.02×20.02 \\times 20.02×2 সেন্টিমিটার =0.04= 0.04=0.04 সেন্টিমিটার। অর্থাৎ আমরা এটা বুঝলাম, প্রতিবার কাগজটা ভাঁজ করলে আগের দ্বিগুণ পুরু হয়ে যায়।\nপৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব 384400384400384400 কিলোমিটার। সেখানে দুবার ভাঁজ করে আমাদের হাতে আছে মাত্র 0.040.040.04 সেন্টিমিটার মোটা একটা কাগজ। কী মনে হচ্ছে? এভাবে চাঁদে আদৌ পৌঁছানো যাবে?\nআচ্ছা, আরো কয়েকবার ভাঁজ করার প্রক্রিয়া জারি রাখা যাক। এইভাবে সতেরবার ভাঁজ করার পর 131013101310 সেন্টিমিটার অর্থাৎ প্রায় 131313 মিটার পুরু কাগজ পাওয়া গেল। পঁচিশ বার ভাঁজ করার পর পাওয়া যাবে 335544335544335544 সেন্টিমিটার। একবার ভেবে দেখো, সতেরো বার ভাঁজ করার পর পাওয়া যাচ্ছিল 131013101310 সেন্টিমিটার, কিন্তু পঁচিশ বার ভাঁজ করতে পাওয়া গেলো 335544335544335544 সেন্টিমিটার। মাত্র আটবার বেশি ভাঁজ করার ফলে এই যে হঠাৎ এতটা পরিমান বেড়ে গেলো, এই ধরণের বৃদ্ধিকে বলা হয় Exponential Growth1।\nএইভাবে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করার পর আমাদের হাতে থাকবে প্রায় 439804439804439804 কিলোমিটার মোটা একটা কাগজ; এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব মাত্র 384400384400384400 কিলোমিটার। অর্থাৎ একটা কাগজকে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করে আমরা সফলভাবে চাঁদে পৌঁছে গেছি।\nএবার আসি আসল গল্পে। উপরে যা কিছু বললাম সবই তত্ত্বকথা। বাস্তবে দেখা গেছে, যে কোনো কাগজকে সাত-আট বারের বেশি ভাঁজ করা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তাই সত্যি সত্যিই একখানা কাগজকে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব অতিক্রম করা কোনোদিনই সম্ভব নয়। অবশ্য তাতে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। তা নাহলে পাড়ার বিচ্ছু ছেলেরা সময়ে - অসময়ে কাগজ ভাঁজ করে চাঁদের পিঠ চুলকে দিয়ে আসতো। তাতে চাঁদমামা কিঞ্চিৎ বিরক্ত হতেন বইকি!\nExponential Growth - Wikipedia\u0026#160;\u0026#x21a9;\u0026#xfe0e;\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/kagaj-vanj-kore-chande-jawa/","summary":"\u003cp\u003eকয়েকদিন আগেই চন্দ্রযান - ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে ল্যান্ড করেছে। কিন্তু আমি একটা খবর তোমাদের\u003cbr\u003e\nচুপিচুপি জানিয়ে রাখি শোনো: চাঁদে যাওয়ার জন্যে কোনো মহাকাশযান দরকার নেই, সামান্য একটা কাগজ হলেই\nযথেষ্ট। সত্যি সত্যিই চাঁদে যাওয়া যাবে না; কিন্তু কাগজটা যদি মোট বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করা হয়, তাহলে সেটা\nএতটাই মোটা হয়ে যাবে, যাতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বকে ছাড়িয়ে যাবে।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eকথাটা ঠিক বিশ্বাস হলো না, তাইতো? তাহলে হিসেবটা করেই দেখা যাক।\u003c/p\u003e","title":"কাগজ ভাঁজ করে চাঁদে যাওয়া"},{"content":"কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়৷ বিছানা থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করি। জুতোর ভেতর মোরামের কুচি ঢুকে যায়। আমি মাথা নীচু করে জুতোর ফিতে খুলে ফেলি। জুতোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আস্ত ত্রিকোণমিতি। মুখ তুলে দেখি মাধ্যমিকের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, বাবার হাত ধরে।\nকখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে পড়ে যায় ক্লাস ফোরে হারিয়ে যাওয়া আধখাওয়া পেন্সিলটার কথা। মা খাটের তলায় ঢুকতে বারণ করেছিলো; তাই আজও সেই পেন্সিলটা নিখোঁজ। আমি নিষিদ্ধ আনন্দে শরীরটা ঢুকিয়ে দিই খাটের তলায়। আর তখনই সারাজীবনের সমস্ত পাপ আমাকে মৌমাছির মত ছেঁকে ধরে। আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, মায়েদের কথা শুনতে হয়!\nকখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু উঠে বসতে ইচ্ছে করে না। শুয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। কালপুরুষের কোমরবন্ধ উত্তুরে হাওয়ায় দুলতে থাকে। কয়েকশো ট্রিলিয়ন মৃত তারার আলোয় বুঝতে পারি, আমার ছেলে আগুন হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে।\nকখনো কখনো আসলেই ঘুম ভাঙে না।\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/duswopno/","summary":"\u003cp\u003eকখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়৷ বিছানা থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করি। জুতোর ভেতর মোরামের কুচি ঢুকে যায়। আমি\nমাথা নীচু করে জুতোর ফিতে খুলে ফেলি। জুতোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আস্ত ত্রিকোণমিতি। মুখ তুলে দেখি মাধ্যমিকের\nদরজায় দাঁড়িয়ে আছি, বাবার হাত ধরে।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eকখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে পড়ে যায় ক্লাস ফোরে হারিয়ে যাওয়া আধখাওয়া পেন্সিলটার কথা। মা খাটের তলায়\nঢুকতে বারণ করেছিলো; তাই আজও সেই পেন্সিলটা নিখোঁজ। আমি নিষিদ্ধ আনন্দে শরীরটা ঢুকিয়ে দিই খাটের তলায়। আর\nতখনই সারাজীবনের সমস্ত পাপ আমাকে মৌমাছির মত ছেঁকে ধরে। আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, মায়েদের কথা শুনতে\nহয়!\u003c/p\u003e","title":"দুঃস্বপ্ন"},{"content":"হাতে দু-চার পয়সা এলে একটা বাড়ি বানাবো। সেই বাড়ির বারান্দা থেকে ঢিল ছুঁড়লে তেপান্তরের মাঠে হারিয়ে যাবে; আর সকালবেলা বাজারের থলি হাতে বেরোলে পৌঁছানো যাবে কোনো এক অখ্যাত হল্ট স্টেশনে।\nসন্ধ্যেবেলা দূরের শহরতলিতে যখন টিমটিমে আলোগুলো জ্বলে উঠবে, তখন ফাঁকা স্টেশনের বেঞ্চে গিয়ে বসবো। চা-ওয়ালা দাদু হাতে ধরিয়ে দেবে মাটির ভাঁড়। সেই চায়ের চিনির মাত্রা এক-আধ দিন কম-বেশি হলেও ভালোবাসার কমতি হবে না কোনোদিন।\nরাত নেমে আসবে হিংস্র শ্বাপদের মতো। মায়ের ফোন আসবে বাড়ি থেকে। আমি চতুর্থ ভাঁড়টা সশব্দে ছুঁড়ে মারবো ইস্পাতের সমান্তরাল রেখাদুটোর মাঝখানে। ঠিক তার কয়েক মুহূর্ত পরেই না-থামার পরোয়ানা নিয়ে সদম্ভে ছুটে আসবে কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন। পোড়ামাটির টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়বে, আমার অধরা স্বপ্নের মতো।।\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/bari/","summary":"\u003cp\u003eহাতে দু-চার পয়সা এলে একটা বাড়ি বানাবো। সেই বাড়ির বারান্দা থেকে ঢিল ছুঁড়লে তেপান্তরের মাঠে হারিয়ে যাবে;\nআর সকালবেলা বাজারের থলি হাতে বেরোলে পৌঁছানো যাবে কোনো এক অখ্যাত হল্ট স্টেশনে।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eসন্ধ্যেবেলা দূরের শহরতলিতে যখন টিমটিমে আলোগুলো জ্বলে উঠবে, তখন ফাঁকা স্টেশনের বেঞ্চে গিয়ে বসবো।\nচা-ওয়ালা দাদু হাতে ধরিয়ে দেবে মাটির ভাঁড়। সেই চায়ের চিনির মাত্রা এক-আধ দিন কম-বেশি হলেও ভালোবাসার\nকমতি হবে না কোনোদিন।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eরাত নেমে আসবে হিংস্র শ্বাপদের মতো। মায়ের ফোন আসবে বাড়ি থেকে। আমি চতুর্থ ভাঁড়টা সশব্দে ছুঁড়ে মারবো\nইস্পাতের সমান্তরাল রেখাদুটোর মাঝখানে। ঠিক তার কয়েক মুহূর্ত পরেই না-থামার পরোয়ানা নিয়ে সদম্ভে ছুটে আসবে\nকোনো এক্সপ্রেস ট্রেন। পোড়ামাটির টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়বে, আমার অধরা স্বপ্নের মতো।।\u003c/p\u003e","title":"বাড়ি"},{"content":"পাতা ঝরে যায় পুরোনো স্মৃতির মতো;\nচোরাবালি জানে তলিয়ে যাওয়ার সুখ।\nবোরোলিনে সারে মনের ক্রনিক ক্ষত?\nহৃদপিন্ডকে বোকারাই ভাবে বুক।\nআমিও ভাবছি, ছুটি নিই ক\u0026rsquo;টা দিন;\nইঁদুর-দৌড়ে ক্লান্তি বাড়ছে আরো।\nচায়ের গুমটি খোলা থাকে ছ\u0026rsquo;টা দিন;\nসময় থাকলে তুমিও আসতে পারো।\nবিশ্বাসে আমি হোমারের মতো, কানা।\nভালোবাসলে মোমের মতোই গলি।\nআমার তো নেই পক্ষীরাজের ডানা;\nস্বপ্নগুলোকে দিলেম জলাঞ্জলি।\nআমার পকেটে খুচরো দুঃখ ভরা;\nবছর ফুরোতে বাকি দিন দশ-বারো।\nতোমার ভাঁড়েও ঢেলে দেবো শর্করা,\nইচ্ছে থাকলে সঙ্গে আসতে পারো।\nপরিযায়ী শীতে উষ্ণতা মুখচোরা;\nচেনা গিরগিটি পালটে নিয়েছে রং।\nভালোবাসবার মামলায় আনকোরা;\nবলবো তোমাকে সেই হিম্মত কম।\nতোমার জন্যে এ\u0026rsquo; চিঠি গেলেম রেখে।\nচায়ের দোকান খোলা থাকে রোব্বারও\u0026hellip;\nমকসুদ ভাই চা বানায় ভোর থেকে;\nপারলে আমার সঙ্গে আসতে পারো।\nউষ্ণতা নিয়ে পাশেই বসতে পারো।।\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/aste-paro/","summary":"\u003cp\u003eপাতা ঝরে যায় পুরোনো স্মৃতির মতো;\u003cbr\u003e\nচোরাবালি জানে তলিয়ে যাওয়ার সুখ।\u003cbr\u003e\nবোরোলিনে সারে মনের ক্রনিক ক্ষত?\u003cbr\u003e\nহৃদপিন্ডকে বোকারাই ভাবে বুক।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eআমিও ভাবছি, ছুটি নিই ক\u0026rsquo;টা দিন;\u003cbr\u003e\nইঁদুর-দৌড়ে ক্লান্তি বাড়ছে আরো।\u003cbr\u003e\nচায়ের গুমটি খোলা থাকে ছ\u0026rsquo;টা দিন;\u003cbr\u003e\nসময় থাকলে তুমিও আসতে পারো।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eবিশ্বাসে আমি হোমারের মতো, কানা।\u003cbr\u003e\nভালোবাসলে মোমের মতোই গলি।\u003cbr\u003e\nআমার তো নেই পক্ষীরাজের ডানা;\u003cbr\u003e\nস্বপ্নগুলোকে দিলেম জলাঞ্জলি।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eআমার পকেটে খুচরো দুঃখ ভরা;\u003cbr\u003e\nবছর ফুরোতে বাকি দিন দশ-বারো।\u003cbr\u003e\nতোমার ভাঁড়েও ঢেলে দেবো শর্করা,\u003cbr\u003e\nইচ্ছে থাকলে সঙ্গে আসতে পারো।\u003c/p\u003e","title":"আসতে পারো"},{"content":"আমি তখন খড়গপুরের কাছে।\nলোকাল ট্রেনে ভীষণ ঘেমে-নেয়ে\nঅফিস-ফেরত নিত্যদিনের মতো;\nবৃষ্টি, তোমার জন্যে ছিলেম চেয়ে।\nবৃষ্টি, তুমি তখন বোধহয় পঁচিশ,\nনামী কোনো স্কুলের দিদিমনি।\nআমি তখন ব্যাঙ্কে\u0026hellip;ঠান্ডা ঘরে\nটাকার হিসেব মেলাই; সাবধানী।\nবসলে তুমি আমার মুখোমুখি,\nঅল্প হাসির আভাস নিয়ে মুখে।\nস্বল্প চেনা নিত্যযাত্রী দু\u0026rsquo;জন;\nআলাপ করার তীব্র ইচ্ছে বুকে।\nবললে তুমি,\u0026ldquo;বলুন, কেমন আছেন?\u0026rdquo;\nহেসে বললেম,\u0026ldquo;যাচ্ছে চলে\u0026hellip;এইই\u0026hellip;\u0026rdquo;\nঠিক তখনই বৃষ্টি নামলো জোরে,\nবুঝিয়ে দিলো ভিজতে বাধা নেই।\nসেদিন থেকে বৃষ্টি তোমার প্রেমে\nচলছি ভিজে বিকেল থেকে সকাল।\nআমাদের পথ এক করে দিয়ে গেছে\nপাঁচটে কুড়ির মেদিনীপুর লোকাল।।\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/local-trainer-golpo/","summary":"\u003cp\u003eআমি তখন খড়গপুরের কাছে।\u003cbr\u003e\nলোকাল ট্রেনে ভীষণ ঘেমে-নেয়ে\u003cbr\u003e\nঅফিস-ফেরত নিত্যদিনের মতো;\u003cbr\u003e\nবৃষ্টি, তোমার জন্যে ছিলেম চেয়ে।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eবৃষ্টি, তুমি তখন বোধহয় পঁচিশ,\u003cbr\u003e\nনামী কোনো স্কুলের দিদিমনি।\u003cbr\u003e\nআমি তখন ব্যাঙ্কে\u0026hellip;ঠান্ডা ঘরে\u003cbr\u003e\nটাকার হিসেব মেলাই; সাবধানী।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eবসলে তুমি আমার মুখোমুখি,\u003cbr\u003e\nঅল্প হাসির আভাস নিয়ে মুখে।\u003cbr\u003e\nস্বল্প চেনা নিত্যযাত্রী দু\u0026rsquo;জন;\u003cbr\u003e\nআলাপ করার তীব্র ইচ্ছে বুকে।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eবললে তুমি,\u0026ldquo;বলুন, কেমন আছেন?\u0026rdquo;\u003cbr\u003e\nহেসে বললেম,\u0026ldquo;যাচ্ছে চলে\u0026hellip;এইই\u0026hellip;\u0026rdquo;\u003cbr\u003e\nঠিক তখনই বৃষ্টি নামলো জোরে,\u003cbr\u003e\nবুঝিয়ে দিলো ভিজতে বাধা নেই।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eসেদিন থেকে বৃষ্টি তোমার প্রেমে\u003cbr\u003e\nচলছি ভিজে বিকেল থেকে সকাল।\u003cbr\u003e\nআমাদের পথ এক করে দিয়ে গেছে\u003cbr\u003e\nপাঁচটে কুড়ির মেদিনীপুর লোকাল।।\u003c/p\u003e","title":"লোকাল ট্রেনের গল্প"},{"content":"স্টেশনের নাম ঝাঁটিপাহাড়ি। অনেকক্ষন ধরেই দাঁড়িয়ে আছে হলদিয়া-আসানসোল এক্সপ্রেস। যে দাদা ট্রেনে ঘুগনি বিক্রি করছিলেন, তিনি বললেন লাইনে নাকি কাজ চলছে, সেজন্যে সিগন্যালের সমস্যা। আরো কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবে কে জানে! ট্রেনে উঠলেই আমার আবার খুব ক্ষিদে পায়। এর মধ্যেই আমি দু\u0026rsquo;বার মশলামুড়ি, দু\u0026rsquo;বার ঘুগনি আর একবার আলুর চপ কিনে খেয়ে ফেলেছি। গরম গরম শিঙাড়া দেখে কিনবো নাকি ভাবছি, ঠিক সেই সময়ই আমার চন্দনের কথা মনে পড়লো।\nচন্দন আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। হোস্টেলে আমরা রুমমেট ছিলাম। চন্দনের কম্পিউটার সায়েন্স আর আমার অঙ্ক অনার্স। ওর বাড়ি যেতে হলে ঝাঁটিপাহাড়িতেই নামতে হয়। চন্দন এখন একটা নামী কোম্পানিতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। চেন্নাইতে থাকে। সপ্তাহখানেক আগে ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিল পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসছে। আজকে এখানে নেমে পড়লে কেমন হয়? এই ফাঁকে চন্দনের সঙ্গে দেখাও হয়ে যাবে।\nবেশি ভাবনা-চিন্তা করার সময় নেই। রেলের সিগন্যালের উপর ভরসা করা যায় না। ওরা যেমন সবুজ থেকে লাল হতে সময় নেয় না, তেমনি লাল থেকে সবুজ হতেও সময় নেয় না। চটপট ফোন করলাম চন্দনকে।\nওপাশ থেকে চন্দনের স্বভাবসিদ্ধ গলা শোনা গেল, \u0026ldquo;কীরে গাধা,খবর কী?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;খবর ভালোই। তুই বাড়িতে আছিস তো?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;হ্যাঁ,পরশু এসেছি। তুই কোথায়?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;আমি তোর বাড়ির কাছেই, ঝাঁটিপাহাড়িতে।\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;সে কী রে! তোর চক্করটা কী বলতো? ঝাঁটিপাহাড়িতে কী করছিস তুই?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;আরে অফিসের একটা কাজে আসানসোল যাচ্ছি। একঘন্টা হল এখানেই আটকে আছি, লাইনে কীসব কাজ চলছে। তার জন্যে সিগন্যাল নেই!\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;ও হো, তাই বল! তা\u0026rsquo; কবে ফিরছিস আবার? ফেরার পথে আমার এখানে একদিন থেকে যা!\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;দিন তিনেকের কাজ আছে। আচ্ছা কী বলি শোন না, আমি আজকেই তোর বাড়িতে যাওয়ার প্ল্যান করছিলাম। অসুবিধা আছে?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;অতি উত্তম, অতি উত্তম! আমিও ওটাই বলবো ভাবছিলাম। কিন্তু তোর ওখানে পৌঁছানোটা জরুরি ভেবে আর কিছু বলিনি!\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;না না, ওখানে অসুবিধার কিছু নেই। ওদের একবার ফোন করে জানিয়ে দিলেই হল। কাল সকাল সকাল ট্রেন ধরলে ১০ টার আগে পৌঁছাতে পারবো না?\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;আরামসে পৌঁছে যাবি। আচ্ছা, তুই তাহলে স্টেশনে নেমে একটু দাঁড়া, আমি বাইক নিয়ে আসছি।\u0026rdquo;\n-\u0026ldquo;তথাস্তু।\u0026rdquo;\nসুতরাং ব্যাগ-পত্তর নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম।\nঝাঁটিপাহাড়িতে নেমে আর পাঁচটা মফঃস্বল স্টেশনের পরিচিত গন্ধ অনুভব করলাম। স্টেশনের ঘড়িতে সোয়া ছ\u0026rsquo;টা বাজে। এমনিতেই এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা খুব কম, তার উপর নভেম্বরের এই শেষ সপ্তাহেই শীতটা পড়েছে একদম জাঁকিয়ে। তাই ট্রেন চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম প্রায় জনশূন্য হয়ে গেল। কাছেপিঠেই কোথাও কোনো ক্লাবে অনুষ্ঠান হচ্ছে, তারস্বরে মাইকে চটুল হিন্দি গান বাজছে।\nপ্ল্যাটফর্মের একপ্রান্তে একটা চায়ের দোকান। দোকানে তিন-চারজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক আড্ডা দিচ্ছেন। এই ঠান্ডায় একটু গরম চা পেটে পড়লে ভালোই হত। চন্দনের আসতে সময় লাগবে। দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে এককাপ চা দিতে বললাম।\nচন্দনের বাড়িতে শেষবার গিয়েছিলাম প্রায় বছর তিনেক আগে, চন্দনের বিয়েতে। সেই বার শুধু আমি একাই ছিলাম না। অরিন্দম, শাশ্বত, দীনেশ সব্বাই ছিল। বরযাত্রী হিসেবে চন্দনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যা উৎপাত করেছিলাম আমরা, তা\u0026rsquo; সারাজীবন মনে থাকবে। ওর শ্বশুরবাড়ি এখান থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে। বিয়েটা হয়েছিল জুন-জুলাই মাসের দিকে। তখন সবে গাছে গাছে আম পাকতে শুরু করেছে। মনে আছে, ওই রাতের অন্ধকারেই আমরা চন্দনের শ্বশুরবাড়ির শখের আমগাছের একটাও আম বাকি রাখিনি। যা খেয়েছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি ব্যাগে ভরেছিলাম। এখন সেসব কথা ভাবলেও হাসি পায়। কী পাগলামিটাই না করেছি!\n\u0026ldquo;বাবু, চা!\u0026rdquo;, দোকানদারের কথায় সম্বিৎ ফিরল। এই ঠান্ডায় গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বেশ আরামবোধ করলাম। গ্রাম বা মফঃস্বলের মানুষের মধ্যে একটা সহজাত গুণ থাকে, ওঁরা খুব সহজেই অচেনা মানুষের সঙ্গে ভাব জমিয়ে নিতে পারেন। যে তিনজন ভদ্রলোক দোকানে বসে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন এবার আলাপ জমালেন আমার সাথে, \u0026ldquo;আপনাকে এদিকে নতুন দেখছি যে?\u0026rdquo;\n\u0026ldquo;হ্যাঁ, নতুনই বলতে পারেন। এক বন্ধুর বাড়িতে যাবো।\u0026rdquo;, আমি সৌজন্যের হাসি হেসে উত্তর দিলাম।\n\u0026ldquo;তা\u0026rsquo; বন্ধুর বাড়ি কোন গ্রামে?\u0026rdquo;, অন্য একজন জিজ্ঞেস করলেন।\n\u0026ldquo;গ্রামের নাম তো ঠিক জানি না। আসলে বন্ধু আমাকে নিতে স্টেশনে আসবে, ওর জন্যই অপেক্ষা করছি।\u0026rdquo;\n\u0026ldquo;ওঃ আচ্ছা আচ্ছা। তা\u0026rsquo; সাবধানে যাবেন। ইদানীং এই তল্লাটে ভূতের উপদ্রব খুব বেড়েছে। আজ আবার অমাবস্যা। অন্ধকারেই তো তেনাদের রাজত্ব!\u0026rdquo;, প্রথমজন বললেন।\nযতই মুখে বড় বড় কথা বলি, ফাঁকা স্টেশনের টিমটিমে আলোর নীচে বসে ভূতের কথা শুনলে গায়ের লোম তো ভয়ে খাড়া হয়ে উঠবেই। শুকনো গলায় আমি বললাম, \u0026ldquo;ভূউউত!! বলেন কী মশাই?!\u0026rdquo;\nএবার তৃতীয় ভদ্রলোক মুখ খুললেন, \u0026ldquo;আজ্ঞে হ্যাঁ মশাই, ভূতই বটে। আমিও তেনাদের দেখা পেয়েছি। রাতে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, হঠাৎ দেখি রাস্তার মাঝে ইয়াব্বড় একখানা চারপেয়ে জন্তু। তার চোখদুটো আমার টর্চের আলোয় জ্বলজ্বল করছে!\u0026rdquo;\n\u0026ldquo;শেয়াল?\u0026rdquo;, আমি উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম।\n\u0026ldquo;আরে না না। নির্ঘাত কোনো অপদেবতা, শেয়ালের রূপ ধরে এসেছিল! কিছুতেই রাস্তা ছেড়ে নড়তে চায় না। শেষে আমি চেঁচিয়ে গায়ত্রী মন্ত্র পড়তেই ল্যাজ গুটিয়ে পালালো।\u0026rdquo;, যুদ্ধজয়ের হাসি হাসলেন তৃতীয় ভদ্রলোক।\nদূর! এ আবার কী গাঁজাখুরি গল্প! মনে মনে নিজের উপর বিরক্ত হলাম। খামোখাই ভয় পেয়েছিলাম। নাঃ, বেশিক্ষন এখানে বসা যাবে না। আর কিছুক্ষন এই বোকা বোকা গল্প শুনলে হয়তো পাগলও হয়ে যেতে পারি। তার চেয়ে বরং স্টেশনের বাইরে গিয়ে চন্দনের জন্য অপেক্ষা করা ভালো।\n\u0026ldquo;আচ্ছা, আমাকে এবার উঠতে হবে, আমার বন্ধু চলে এসেছে। আসি, নমস্কার!\u0026rdquo;, আমি চায়ের দাম মিটিয়ে উঠে পড়লাম।\n\u0026ldquo;ও মশাই, আরে গায়ত্রী মন্ত্রটা শিখে যান। কখন তেনাদের দেখা পেয়ে যাবেন, কে জানে!\u0026rdquo;, সেই শেয়াল তাড়ানো ভদ্রলোক পেছন থেকে হাঁক দিয়ে বললেন।\n\u0026ldquo;দরকার নেই। আমরা বাইকে যাবো, বাইকের শব্দে আর হেডলাইটের আলোয় শেয়াল এমনিতেই ভয় পেয়ে পালাবে!\u0026rdquo;\nএরপর কীভাবে চন্দনের বাড়িতে এলাম, কীভাবে বন্ধু এবং বন্ধু-পত্নী আমার আদর-আপ্যায়ণ করলো, সেসব কথা আজ থাক। অহেতুক গল্পের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে। যাই হোক, খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমোতে যেতে ১১ টা বেজে গেল। শীতকালে গ্রামাঞ্চলে এর মধ্যেই মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। চন্দনদের বাড়িটা তিনতলা। একতলার একটা ঘরে আমার শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারাদিনের ট্রেন জার্নিতে এমনিতেই ক্লান্ত ছিলাম, তাছাড়া কাল আবার ভোরবেলা উঠতে হবে, তাই নরম বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার কত সেকেন্ড পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সেটা ঠিক খেয়াল নেই।\nহঠাৎ জানলার কাচে ঠকঠক শব্দ শুনে কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল। মোবাইলে সময় দেখলাম। রাত দুটো। আচ্ছা বিপদে পড়া গেল তো। অচেনা জায়গা, হঠাৎ করে জানলা খুলতেও ঠিক সাহস পাচ্ছি না। এদিকে জানলার উপর ঠকঠক আওয়াজটাও বেড়েই চলেছে। জানলাটা মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে, সুতরাং কুকুর বা শেয়ালের কাজ নয় এটা। আবার কাচের উপর মানুষের আঙুলের টোকায় এত জোরে শব্দ হয় না। তাহলে কি কেউ লাঠি নিয়ে কাচের উপর আঘাত করছে? যে শব্দ করছে তার উদ্দেশ্যটাই বা কী? বাইরেটা পুরো ঘুটঘুটে অন্ধকার, আর অস্বচ্ছ কাচ ভেদ করে বাইরে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।\nসাত-পাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত জানলাটা খুলতেই একঝলক ঠান্ডা হাওয়া একদম হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। সেইসঙ্গে নাকে এসে লাগল মাদ্রাজি ধূপের সুগন্ধ। প্রাথমিক হতভম্ব ভাবটুকু কাটিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠলাম। চোখটা একবার কচলে নিলাম। না, চোখের ভুল নয়! জানলার বাইরে ঠিক আমার মুখোমুখি ওটা কে দাঁড়িয়ে আছে?\nএকটা বেশ লম্বা ছায়ামূর্তি। গায়ে সাদা কাপড় জড়িয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। এতদিনের সব পড়াশোনা, সব বিজ্ঞানমনস্কতা উধাও হয়ে গিয়ে তখন আমার কাছে ওই ছায়ামূর্তিটাই সত্য। খুব আফসোস হল, কেন যে সন্ধ্যেবেলা স্টেশনের ওই ভদ্রলোকের কাছে গায়ত্রী মন্ত্রটা শিখে নিলাম না?\nএবার ছায়ামূর্তি কথা বলল। মিহি খোনা গলার সেই স্বর আমার হাড়-হিম করার পক্ষে যথেষ্ট, \u0026ldquo;কাছে আয়! তোর পিন্ডিটা চটকে দিই!\u0026rdquo;\nআমন্ত্রণটা ঠিক সুবিধের মনে হল না। আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া গলায় কোনো রকমে বললাম, \u0026ldquo;কী চান?!\u0026rdquo;\n\u0026ldquo;কী চাই?\u0026rdquo;, হুংকার দিয়ে উঠল ছায়ামূর্তি, \u0026ldquo;আবার জিজ্ঞেস করছিস? নিজের বউকে ঠকাতে লজ্জা করে না?\u0026rdquo;\nভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম, \u0026ldquo;আজ্ঞে, আপনি কী বলছেন, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!\u0026rdquo;\n\u0026ldquo;পারবি, পারবি। মট্ করে ঘাড়টা যখন মটকে দেবো, তখন সব পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবি!\u0026rdquo;\nকী মুস্কিলে পড়া গেল! অরুণিমা, মানে আমার বউ, আমি তাকে ঠকাচ্ছি? আমার ঘাড়ে ক\u0026rsquo;টা মাথা আছে যে, আমি অরুণিমাকে ঠকাবো? বরং অরুণিমাই আমাকে চিরকাল ঠকিয়ে আসছে। সে আমার পকেট কেটে শপিংই হোক, আর নিজে দোষ করে আমাকে দিয়ে \u0026lsquo;স্যরি\u0026rsquo; বলানোই হোক!\nনিশ্চয়ই ভূত মহাশয় কোথাও ভুল করে ফেলেছেন।তাঁকে শুধরে দেওয়ার জন্যে বললাম, \u0026ldquo;দেখুন স্যার, আপনার নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে…\u0026rdquo;\nআবার সেই হাড়কাঁপানো হুংকার শোনা গেল, \u0026ldquo;চোপরাও! ভূতের চোখকে ফাঁকি দিবি? হারামজাদা! অফিসের কাজ বলে কোথায় যাচ্ছিস, তা জানি না?\u0026rdquo;\nআমি এবার কাঁচুমাচু মুখে বললাম, \u0026ldquo;কী মুস্কিল! বিশ্বাস করুন স্যার, আমি অফিসের কাজেই আসানসোল যাচ্ছি। আপনি মিথ্যেই আমাকে সন্দেহ করছেন। আপনি চাইলে আমার অফিসের কাগজপত্র দেখতে পারেন।\u0026rdquo;\nআমার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠল ছায়ামূর্তি, \u0026ldquo;বেয়াদপি পেয়েছিস? বাড়িতে অফিসের কথা বলে ওখানে আসানসোলে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ফূর্তি করবি। ওরে নিকৃষ্ট জীব, তোকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই! আয়, আয় তোর ঘাড়টা মটকে দিই! অনেকদিন মানুষের গরম গরম রক্ত খাওয়া হয়নি!\u0026rdquo;\nআর একটু হলেই আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যেত। ক্ষিপ্রগতিতে সশব্দে জানলাটা কীভাবে যে বন্ধ করলাম সেটা আমিও ঠিক বলতে পারবো না। আমার হৃৎপিন্ড তখন মিনিটে নির্ঘাৎ ১০০ বার পালস্ নিচ্ছে।\nভূতেরা তো শুনেছি সবজান্তা হয়, তবুও এতবড় একটা মিসটেক কী করে হয়ে গেল কে জানে? আমি মোটেই ফূর্তি করতে আসানসোল যাচ্ছি না, রীতিমতো অফিসের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েই যাচ্ছি। যাইহোক, খুব বাঁচা বেঁচে গেছি। ঘরের ভেতরে অনেকটাই নিরাপদ, কারণ ঘরের দেওয়ালে শ্রীকৃষ্ণের একখানা ছবি টাঙানো আছে, ঘুমোতে যাওয়ার আগে দেখেছিলাম। ঠাকুর-দেবতার ছবি থাকলে ভূতেরা আসতে ভয় পায়, হরর সিনেমাগুলোতে এরকমটাই তো দেখেছি।\nআরো মিনিট দশেক ধরে জানলায় ঠকঠক শব্দ শুনলাম, তারপর সব নিশ্চুপ হয়ে গেল। তবুও ভয়ের চোটে বাকি সময়টুকু আর ঘুমোতে পারলাম না।\nসকাল দশটার মধ্যে আমাকে আসানসোল পৌঁছতে হবে, তাই চন্দন আমাকে ভোর পাঁচটেয় স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গেল। কালকে রাত্রের ব্যাপারটা ওকে বলা হয়নি, কারন ওকে বললেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে বন্ধুমহলে। আমার প্রেস্টিজ একদম পাংচার করে ছাড়বে।\nট্রেন আসতে এখনো পনেরো-কুড়ি মিনিট দেরি আছে। কাউন্টারে টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। ঠিক তখনই আমার মোবাইলে \u0026lsquo;টুং\u0026rsquo; করে মেসেজ আসার নোটিফিকেশন পেলাম। চন্দনের দীর্ঘ টেক্সট মেসেজ। পড়ে তো আমার এক্কেবারে চক্ষুস্থির! চন্দন লিখছে,\n\u0026ldquo;কী রে গাধা, কাল রাত্রে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলি? তোরা আমার বিয়েতে বরযাত্রী গিয়ে কীরকম উৎপাত করেছিলি, মনে আছে? আমার শ্যালক-শ্যালিকারা এখনো ওই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে প্রচন্ড খ্যাপায়। তাই তোর উপর হালকা করে একটু প্রতিশোধ নিয়ে নিলাম। কলেজ জীবনে আমি যে চুটিয়ে নাটক করেছি, সে তো তুই জানিস। তাই ভূতের ভূমিকায় ওই অন্ধকারে গায়ে সাদা কাপড় জড়িয়ে ম্যানেজ করে নিতে অসুবিধা হয়নি। যাই হোক, সাবধানে যাস। ওঃ হ্যাঁ, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, তোর বউদি আর আমি মিলে এই ভোরে উঠে গরম গরম লুচি আর আলুর দম বানিয়েছি তোর জন্য। তোর ব্যাগে হটপটের মধ্যে রাখা আছে। ট্রেনে উঠে সময় করে খেয়ে নিস। পরে কথা হবে।\u0026rdquo;\nবড্ড হাসি পেলো আমার। খুব ঠকিয়েছে চন্দনটা।\nইতিমধ্যে প্ল্যাটফর্মের মাইকে ঘোষণা হয়ে গেছে। ট্রেন আসছে। আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে স্টেশন চত্বর। ট্রেনে উঠেই লুচিগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে। আমি উঠে দাঁড়ালাম।\n(সমাপ্ত)\n","permalink":"https://tarunjana.in/bn/posts/bondhur-bari-jeo-na/","summary":"\u003cp\u003eস্টেশনের নাম ঝাঁটিপাহাড়ি। অনেকক্ষন ধরেই দাঁড়িয়ে আছে হলদিয়া-আসানসোল এক্সপ্রেস। যে দাদা ট্রেনে ঘুগনি বিক্রি\nকরছিলেন, তিনি বললেন লাইনে নাকি কাজ চলছে, সেজন্যে সিগন্যালের সমস্যা। আরো কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবে কে জানে!\nট্রেনে উঠলেই আমার আবার খুব ক্ষিদে পায়। এর মধ্যেই আমি দু\u0026rsquo;বার মশলামুড়ি, দু\u0026rsquo;বার ঘুগনি আর একবার আলুর চপ কিনে\nখেয়ে ফেলেছি। গরম গরম শিঙাড়া দেখে কিনবো নাকি ভাবছি, ঠিক সেই সময়ই আমার চন্দনের কথা মনে পড়লো।\u003c/p\u003e\n\u003cp\u003eচন্দন আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। হোস্টেলে আমরা রুমমেট ছিলাম। চন্দনের কম্পিউটার সায়েন্স আর আমার অঙ্ক অনার্স।\nওর বাড়ি যেতে হলে ঝাঁটিপাহাড়িতেই নামতে হয়। চন্দন এখন একটা নামী কোম্পানিতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। চেন্নাইতে\nথাকে। সপ্তাহখানেক আগে ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিল পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসছে। আজকে এখানে নেমে\nপড়লে কেমন হয়? এই ফাঁকে চন্দনের সঙ্গে দেখাও হয়ে যাবে।\u003c/p\u003e","title":"বন্ধুর বাড়ি যেও না!"}]