স্টেশনের নাম ঝাঁটিপাহাড়ি। অনেকক্ষন ধরেই দাঁড়িয়ে আছে হলদিয়া-আসানসোল এক্সপ্রেস। যে দাদা ট্রেনে ঘুগনি বিক্রি করছিলেন, তিনি বললেন লাইনে নাকি কাজ চলছে, সেজন্যে সিগন্যালের সমস্যা। আরো কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবে কে জানে! ট্রেনে উঠলেই আমার আবার খুব ক্ষিদে পায়। এর মধ্যেই আমি দু’বার মশলামুড়ি, দু’বার ঘুগনি আর একবার আলুর চপ কিনে খেয়ে ফেলেছি। গরম গরম শিঙাড়া দেখে কিনবো নাকি ভাবছি, ঠিক সেই সময়ই আমার চন্দনের কথা মনে পড়লো।

চন্দন আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। হোস্টেলে আমরা রুমমেট ছিলাম। চন্দনের কম্পিউটার সায়েন্স আর আমার অঙ্ক অনার্স। ওর বাড়ি যেতে হলে ঝাঁটিপাহাড়িতেই নামতে হয়। চন্দন এখন একটা নামী কোম্পানিতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। চেন্নাইতে থাকে। সপ্তাহখানেক আগে ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিল পনেরো দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসছে। আজকে এখানে নেমে পড়লে কেমন হয়? এই ফাঁকে চন্দনের সঙ্গে দেখাও হয়ে যাবে।

বেশি ভাবনা-চিন্তা করার সময় নেই। রেলের সিগন্যালের উপর ভরসা করা যায় না। ওরা যেমন সবুজ থেকে লাল হতে সময় নেয় না, তেমনি লাল থেকে সবুজ হতেও সময় নেয় না। চটপট ফোন করলাম চন্দনকে।

ওপাশ থেকে চন্দনের স্বভাবসিদ্ধ গলা শোনা গেল, “কীরে গাধা,খবর কী?”

-“খবর ভালোই। তুই বাড়িতে আছিস তো?”

-“হ্যাঁ,পরশু এসেছি। তুই কোথায়?”

-“আমি তোর বাড়ির কাছেই, ঝাঁটিপাহাড়িতে।”

-“সে কী রে! তোর চক্করটা কী বলতো? ঝাঁটিপাহাড়িতে কী করছিস তুই?”

-“আরে অফিসের একটা কাজে আসানসোল যাচ্ছি। একঘন্টা হল এখানেই আটকে আছি, লাইনে কীসব কাজ চলছে। তার জন্যে সিগন্যাল নেই!”

-“ও হো, তাই বল! তা’ কবে ফিরছিস আবার? ফেরার পথে আমার এখানে একদিন থেকে যা!”

-“দিন তিনেকের কাজ আছে। আচ্ছা কী বলি শোন না, আমি আজকেই তোর বাড়িতে যাওয়ার প্ল্যান করছিলাম। অসুবিধা আছে?”

-“অতি উত্তম, অতি উত্তম! আমিও ওটাই বলবো ভাবছিলাম। কিন্তু তোর ওখানে পৌঁছানোটা জরুরি ভেবে আর কিছু বলিনি!”

-“না না, ওখানে অসুবিধার কিছু নেই। ওদের একবার ফোন করে জানিয়ে দিলেই হল। কাল সকাল সকাল ট্রেন ধরলে ১০ টার আগে পৌঁছাতে পারবো না?”

-“আরামসে পৌঁছে যাবি। আচ্ছা, তুই তাহলে স্টেশনে নেমে একটু দাঁড়া, আমি বাইক নিয়ে আসছি।”

-“তথাস্তু।”

সুতরাং ব্যাগ-পত্তর নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম।


ঝাঁটিপাহাড়িতে নেমে আর পাঁচটা মফঃস্বল স্টেশনের পরিচিত গন্ধ অনুভব করলাম। স্টেশনের ঘড়িতে সোয়া ছ’টা বাজে। এমনিতেই এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা খুব কম, তার উপর নভেম্বরের এই শেষ সপ্তাহেই শীতটা পড়েছে একদম জাঁকিয়ে। তাই ট্রেন চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম প্রায় জনশূন্য হয়ে গেল। কাছেপিঠেই কোথাও কোনো ক্লাবে অনুষ্ঠান হচ্ছে, তারস্বরে মাইকে চটুল হিন্দি গান বাজছে।

প্ল্যাটফর্মের একপ্রান্তে একটা চায়ের দোকান। দোকানে তিন-চারজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক আড্ডা দিচ্ছেন। এই ঠান্ডায় একটু গরম চা পেটে পড়লে ভালোই হত। চন্দনের আসতে সময় লাগবে। দোকানের সামনের বেঞ্চে বসে এককাপ চা দিতে বললাম।

চন্দনের বাড়িতে শেষবার গিয়েছিলাম প্রায় বছর তিনেক আগে, চন্দনের বিয়েতে। সেই বার শুধু আমি একাই ছিলাম না। অরিন্দম, শাশ্বত, দীনেশ সব্বাই ছিল। বরযাত্রী হিসেবে চন্দনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যা উৎপাত করেছিলাম আমরা, তা’ সারাজীবন মনে থাকবে। ওর শ্বশুরবাড়ি এখান থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে। বিয়েটা হয়েছিল জুন-জুলাই মাসের দিকে। তখন সবে গাছে গাছে আম পাকতে শুরু করেছে। মনে আছে, ওই রাতের অন্ধকারেই আমরা চন্দনের শ্বশুরবাড়ির শখের আমগাছের একটাও আম বাকি রাখিনি। যা খেয়েছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি ব্যাগে ভরেছিলাম। এখন সেসব কথা ভাবলেও হাসি পায়। কী পাগলামিটাই না করেছি!

“বাবু, চা!”, দোকানদারের কথায় সম্বিৎ ফিরল। এই ঠান্ডায় গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বেশ আরামবোধ করলাম। গ্রাম বা মফঃস্বলের মানুষের মধ্যে একটা সহজাত গুণ থাকে, ওঁরা খুব সহজেই অচেনা মানুষের সঙ্গে ভাব জমিয়ে নিতে পারেন। যে তিনজন ভদ্রলোক দোকানে বসে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন এবার আলাপ জমালেন আমার সাথে, “আপনাকে এদিকে নতুন দেখছি যে?”

“হ্যাঁ, নতুনই বলতে পারেন। এক বন্ধুর বাড়িতে যাবো।”, আমি সৌজন্যের হাসি হেসে উত্তর দিলাম।

“তা’ বন্ধুর বাড়ি কোন গ্রামে?”, অন্য একজন জিজ্ঞেস করলেন।

“গ্রামের নাম তো ঠিক জানি না। আসলে বন্ধু আমাকে নিতে স্টেশনে আসবে, ওর জন্যই অপেক্ষা করছি।”

“ওঃ আচ্ছা আচ্ছা। তা’ সাবধানে যাবেন। ইদানীং এই তল্লাটে ভূতের উপদ্রব খুব বেড়েছে। আজ আবার অমাবস্যা। অন্ধকারেই তো তেনাদের রাজত্ব!”, প্রথমজন বললেন।

যতই মুখে বড় বড় কথা বলি, ফাঁকা স্টেশনের টিমটিমে আলোর নীচে বসে ভূতের কথা শুনলে গায়ের লোম তো ভয়ে খাড়া হয়ে উঠবেই। শুকনো গলায় আমি বললাম, “ভূউউত!! বলেন কী মশাই?!”

এবার তৃতীয় ভদ্রলোক মুখ খুললেন, “আজ্ঞে হ্যাঁ মশাই, ভূতই বটে। আমিও তেনাদের দেখা পেয়েছি। রাতে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম, হঠাৎ দেখি রাস্তার মাঝে ইয়াব্বড় একখানা চারপেয়ে জন্তু। তার চোখদুটো আমার টর্চের আলোয় জ্বলজ্বল করছে!”

“শেয়াল?”, আমি উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম।

“আরে না না। নির্ঘাত কোনো অপদেবতা, শেয়ালের রূপ ধরে এসেছিল! কিছুতেই রাস্তা ছেড়ে নড়তে চায় না। শেষে আমি চেঁচিয়ে গায়ত্রী মন্ত্র পড়তেই ল্যাজ গুটিয়ে পালালো।”, যুদ্ধজয়ের হাসি হাসলেন তৃতীয় ভদ্রলোক।

দূর! এ আবার কী গাঁজাখুরি গল্প! মনে মনে নিজের উপর বিরক্ত হলাম। খামোখাই ভয় পেয়েছিলাম। নাঃ, বেশিক্ষন এখানে বসা যাবে না। আর কিছুক্ষন এই বোকা বোকা গল্প শুনলে হয়তো পাগলও হয়ে যেতে পারি। তার চেয়ে বরং স্টেশনের বাইরে গিয়ে চন্দনের জন্য অপেক্ষা করা ভালো।

“আচ্ছা, আমাকে এবার উঠতে হবে, আমার বন্ধু চলে এসেছে। আসি, নমস্কার!”, আমি চায়ের দাম মিটিয়ে উঠে পড়লাম।

“ও মশাই, আরে গায়ত্রী মন্ত্রটা শিখে যান। কখন তেনাদের দেখা পেয়ে যাবেন, কে জানে!”, সেই শেয়াল তাড়ানো ভদ্রলোক পেছন থেকে হাঁক দিয়ে বললেন।

“দরকার নেই। আমরা বাইকে যাবো, বাইকের শব্দে আর হেডলাইটের আলোয় শেয়াল এমনিতেই ভয় পেয়ে পালাবে!”


এরপর কীভাবে চন্দনের বাড়িতে এলাম, কীভাবে বন্ধু এবং বন্ধু-পত্নী আমার আদর-আপ্যায়ণ করলো, সেসব কথা আজ থাক। অহেতুক গল্পের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাবে। যাই হোক, খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমোতে যেতে ১১ টা বেজে গেল। শীতকালে গ্রামাঞ্চলে এর মধ্যেই মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। চন্দনদের বাড়িটা তিনতলা। একতলার একটা ঘরে আমার শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারাদিনের ট্রেন জার্নিতে এমনিতেই ক্লান্ত ছিলাম, তাছাড়া কাল আবার ভোরবেলা উঠতে হবে, তাই নরম বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার কত সেকেন্ড পরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সেটা ঠিক খেয়াল নেই।

হঠাৎ জানলার কাচে ঠকঠক শব্দ শুনে কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেল। মোবাইলে সময় দেখলাম। রাত দুটো। আচ্ছা বিপদে পড়া গেল তো। অচেনা জায়গা, হঠাৎ করে জানলা খুলতেও ঠিক সাহস পাচ্ছি না। এদিকে জানলার উপর ঠকঠক আওয়াজটাও বেড়েই চলেছে। জানলাটা মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে, সুতরাং কুকুর বা শেয়ালের কাজ নয় এটা। আবার কাচের উপর মানুষের আঙুলের টোকায় এত জোরে শব্দ হয় না। তাহলে কি কেউ লাঠি নিয়ে কাচের উপর আঘাত করছে? যে শব্দ করছে তার উদ্দেশ্যটাই বা কী? বাইরেটা পুরো ঘুটঘুটে অন্ধকার, আর অস্বচ্ছ কাচ ভেদ করে বাইরে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না।

সাত-পাঁচ ভেবে শেষ পর্যন্ত জানলাটা খুলতেই একঝলক ঠান্ডা হাওয়া একদম হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। সেইসঙ্গে নাকে এসে লাগল মাদ্রাজি ধূপের সুগন্ধ। প্রাথমিক হতভম্ব ভাবটুকু কাটিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠলাম। চোখটা একবার কচলে নিলাম। না, চোখের ভুল নয়! জানলার বাইরে ঠিক আমার মুখোমুখি ওটা কে দাঁড়িয়ে আছে?

একটা বেশ লম্বা ছায়ামূর্তি। গায়ে সাদা কাপড় জড়িয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে। এতদিনের সব পড়াশোনা, সব বিজ্ঞানমনস্কতা উধাও হয়ে গিয়ে তখন আমার কাছে ওই ছায়ামূর্তিটাই সত্য। খুব আফসোস হল, কেন যে সন্ধ্যেবেলা স্টেশনের ওই ভদ্রলোকের কাছে গায়ত্রী মন্ত্রটা শিখে নিলাম না?

এবার ছায়ামূর্তি কথা বলল। মিহি খোনা গলার সেই স্বর আমার হাড়-হিম করার পক্ষে যথেষ্ট, “কাছে আয়! তোর পিন্ডিটা চটকে দিই!”

আমন্ত্রণটা ঠিক সুবিধের মনে হল না। আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া গলায় কোনো রকমে বললাম, “কী চান?!”

“কী চাই?”, হুংকার দিয়ে উঠল ছায়ামূর্তি, “আবার জিজ্ঞেস করছিস? নিজের বউকে ঠকাতে লজ্জা করে না?”

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম, “আজ্ঞে, আপনি কী বলছেন, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!”

“পারবি, পারবি। মট্ করে ঘাড়টা যখন মটকে দেবো, তখন সব পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবি!”

কী মুস্কিলে পড়া গেল! অরুণিমা, মানে আমার বউ, আমি তাকে ঠকাচ্ছি? আমার ঘাড়ে ক’টা মাথা আছে যে, আমি অরুণিমাকে ঠকাবো? বরং অরুণিমাই আমাকে চিরকাল ঠকিয়ে আসছে। সে আমার পকেট কেটে শপিংই হোক, আর নিজে দোষ করে আমাকে দিয়ে ‘স্যরি’ বলানোই হোক!

নিশ্চয়ই ভূত মহাশয় কোথাও ভুল করে ফেলেছেন।তাঁকে শুধরে দেওয়ার জন্যে বললাম, “দেখুন স্যার, আপনার নিশ্চয় কোথাও ভুল হচ্ছে…”

আবার সেই হাড়কাঁপানো হুংকার শোনা গেল, “চোপরাও! ভূতের চোখকে ফাঁকি দিবি? হারামজাদা! অফিসের কাজ বলে কোথায় যাচ্ছিস, তা জানি না?”

আমি এবার কাঁচুমাচু মুখে বললাম, “কী মুস্কিল! বিশ্বাস করুন স্যার, আমি অফিসের কাজেই আসানসোল যাচ্ছি। আপনি মিথ্যেই আমাকে সন্দেহ করছেন। আপনি চাইলে আমার অফিসের কাগজপত্র দেখতে পারেন।”

আমার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠল ছায়ামূর্তি, “বেয়াদপি পেয়েছিস? বাড়িতে অফিসের কথা বলে ওখানে আসানসোলে গিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ফূর্তি করবি। ওরে নিকৃষ্ট জীব, তোকে বাঁচিয়ে রেখে লাভ নেই! আয়, আয় তোর ঘাড়টা মটকে দিই! অনেকদিন মানুষের গরম গরম রক্ত খাওয়া হয়নি!”

আর একটু হলেই আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যেত। ক্ষিপ্রগতিতে সশব্দে জানলাটা কীভাবে যে বন্ধ করলাম সেটা আমিও ঠিক বলতে পারবো না। আমার হৃৎপিন্ড তখন মিনিটে নির্ঘাৎ ১০০ বার পালস্ নিচ্ছে।

ভূতেরা তো শুনেছি সবজান্তা হয়, তবুও এতবড় একটা মিসটেক কী করে হয়ে গেল কে জানে? আমি মোটেই ফূর্তি করতে আসানসোল যাচ্ছি না, রীতিমতো অফিসের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েই যাচ্ছি। যাইহোক, খুব বাঁচা বেঁচে গেছি। ঘরের ভেতরে অনেকটাই নিরাপদ, কারণ ঘরের দেওয়ালে শ্রীকৃষ্ণের একখানা ছবি টাঙানো আছে, ঘুমোতে যাওয়ার আগে দেখেছিলাম। ঠাকুর-দেবতার ছবি থাকলে ভূতেরা আসতে ভয় পায়, হরর সিনেমাগুলোতে এরকমটাই তো দেখেছি।

আরো মিনিট দশেক ধরে জানলায় ঠকঠক শব্দ শুনলাম, তারপর সব নিশ্চুপ হয়ে গেল। তবুও ভয়ের চোটে বাকি সময়টুকু আর ঘুমোতে পারলাম না।


সকাল দশটার মধ্যে আমাকে আসানসোল পৌঁছতে হবে, তাই চন্দন আমাকে ভোর পাঁচটেয় স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গেল। কালকে রাত্রের ব্যাপারটা ওকে বলা হয়নি, কারন ওকে বললেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে বন্ধুমহলে। আমার প্রেস্টিজ একদম পাংচার করে ছাড়বে।

ট্রেন আসতে এখনো পনেরো-কুড়ি মিনিট দেরি আছে। কাউন্টারে টিকিট কেটে প্ল্যাটফর্মের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। ঠিক তখনই আমার মোবাইলে ‘টুং’ করে মেসেজ আসার নোটিফিকেশন পেলাম। চন্দনের দীর্ঘ টেক্সট মেসেজ। পড়ে তো আমার এক্কেবারে চক্ষুস্থির! চন্দন লিখছে,

“কী রে গাধা, কাল রাত্রে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলি? তোরা আমার বিয়েতে বরযাত্রী গিয়ে কীরকম উৎপাত করেছিলি, মনে আছে? আমার শ্যালক-শ্যালিকারা এখনো ওই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে প্রচন্ড খ্যাপায়। তাই তোর উপর হালকা করে একটু প্রতিশোধ নিয়ে নিলাম। কলেজ জীবনে আমি যে চুটিয়ে নাটক করেছি, সে তো তুই জানিস। তাই ভূতের ভূমিকায় ওই অন্ধকারে গায়ে সাদা কাপড় জড়িয়ে ম্যানেজ করে নিতে অসুবিধা হয়নি। যাই হোক, সাবধানে যাস। ওঃ হ্যাঁ, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, তোর বউদি আর আমি মিলে এই ভোরে উঠে গরম গরম লুচি আর আলুর দম বানিয়েছি তোর জন্য। তোর ব্যাগে হটপটের মধ্যে রাখা আছে। ট্রেনে উঠে সময় করে খেয়ে নিস। পরে কথা হবে।”

বড্ড হাসি পেলো আমার। খুব ঠকিয়েছে চন্দনটা।

ইতিমধ্যে প্ল্যাটফর্মের মাইকে ঘোষণা হয়ে গেছে। ট্রেন আসছে। আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে স্টেশন চত্বর। ট্রেনে উঠেই লুচিগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে। আমি উঠে দাঁড়ালাম।

(সমাপ্ত)