কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়৷ বিছানা থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করি। জুতোর ভেতর মোরামের কুচি ঢুকে যায়। আমি মাথা নীচু করে জুতোর ফিতে খুলে ফেলি। জুতোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আস্ত ত্রিকোণমিতি। মুখ তুলে দেখি মাধ্যমিকের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, বাবার হাত ধরে।
কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে পড়ে যায় ক্লাস ফোরে হারিয়ে যাওয়া আধখাওয়া পেন্সিলটার কথা। মা খাটের তলায় ঢুকতে বারণ করেছিলো; তাই আজও সেই পেন্সিলটা নিখোঁজ। আমি নিষিদ্ধ আনন্দে শরীরটা ঢুকিয়ে দিই খাটের তলায়। আর তখনই সারাজীবনের সমস্ত পাপ আমাকে মৌমাছির মত ছেঁকে ধরে। আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, মায়েদের কথা শুনতে হয়!
কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু উঠে বসতে ইচ্ছে করে না। শুয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। কালপুরুষের কোমরবন্ধ উত্তুরে হাওয়ায় দুলতে থাকে। কয়েকশো ট্রিলিয়ন মৃত তারার আলোয় বুঝতে পারি, আমার ছেলে আগুন হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে।
কখনো কখনো আসলেই ঘুম ভাঙে না।