কয়েকদিন আগেই চন্দ্রযান - ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে ল্যান্ড করেছে। কিন্তু আমি একটা খবর তোমাদের
চুপিচুপি জানিয়ে রাখি শোনো: চাঁদে যাওয়ার জন্যে কোনো মহাকাশযান দরকার নেই, সামান্য একটা কাগজ হলেই যথেষ্ট। সত্যি সত্যিই চাঁদে যাওয়া যাবে না; কিন্তু কাগজটা যদি মোট বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করা হয়, তাহলে সেটা এতটাই মোটা হয়ে যাবে, যাতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বকে ছাড়িয়ে যাবে।

কথাটা ঠিক বিশ্বাস হলো না, তাইতো? তাহলে হিসেবটা করেই দেখা যাক।

একটা কাগজ নিলাম। যে কোনো সাধারন কাগজ হলেই চলবে। লেখালেখি করার যে কাগজগুলো বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলো মোটামুটিভাবে 0.010.01 সেন্টিমিটার পুরু হয়। আমরা প্রথমে ওই কাগজটা একবার ভাঁজ করলাম। তাহলে এখন কাগজটা 0.01×20.01 \times 2 সেন্টিমিটার =0.02= 0.02 সেন্টিমিটার পুরু হলো। আবার একবার ভাঁজ করলে 0.02×20.02 \times 2 সেন্টিমিটার =0.04= 0.04 সেন্টিমিটার। অর্থাৎ আমরা এটা বুঝলাম, প্রতিবার কাগজটা ভাঁজ করলে আগের দ্বিগুণ পুরু হয়ে যায়।

পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব 384400384400 কিলোমিটার। সেখানে দুবার ভাঁজ করে আমাদের হাতে আছে মাত্র 0.040.04 সেন্টিমিটার মোটা একটা কাগজ। কী মনে হচ্ছে? এভাবে চাঁদে আদৌ পৌঁছানো যাবে?

আচ্ছা, আরো কয়েকবার ভাঁজ করার প্রক্রিয়া জারি রাখা যাক। এইভাবে সতেরবার ভাঁজ করার পর 13101310 সেন্টিমিটার অর্থাৎ প্রায় 1313 মিটার পুরু কাগজ পাওয়া গেল। পঁচিশ বার ভাঁজ করার পর পাওয়া যাবে 335544335544 সেন্টিমিটার। একবার ভেবে দেখো, সতেরো বার ভাঁজ করার পর পাওয়া যাচ্ছিল 13101310 সেন্টিমিটার, কিন্তু পঁচিশ বার ভাঁজ করতে পাওয়া গেলো 335544335544 সেন্টিমিটার। মাত্র আটবার বেশি ভাঁজ করার ফলে এই যে হঠাৎ এতটা পরিমান বেড়ে গেলো, এই ধরণের বৃদ্ধিকে বলা হয় Exponential Growth1

এইভাবে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করার পর আমাদের হাতে থাকবে প্রায় 439804439804 কিলোমিটার মোটা একটা কাগজ; এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব মাত্র 384400384400 কিলোমিটার। অর্থাৎ একটা কাগজকে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করে আমরা সফলভাবে চাঁদে পৌঁছে গেছি।

এবার আসি আসল গল্পে। উপরে যা কিছু বললাম সবই তত্ত্বকথা। বাস্তবে দেখা গেছে, যে কোনো কাগজকে সাত-আট বারের বেশি ভাঁজ করা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তাই সত্যি সত্যিই একখানা কাগজকে বিয়াল্লিশ বার ভাঁজ করে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব অতিক্রম করা কোনোদিনই সম্ভব নয়। অবশ্য তাতে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। তা নাহলে পাড়ার বিচ্ছু ছেলেরা সময়ে - অসময়ে কাগজ ভাঁজ করে চাঁদের পিঠ চুলকে দিয়ে আসতো। তাতে চাঁদমামা কিঞ্চিৎ বিরক্ত হতেন বইকি!