দুঃস্বপ্ন

কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়৷ বিছানা থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করি। জুতোর ভেতর মোরামের কুচি ঢুকে যায়। আমি মাথা নীচু করে জুতোর ফিতে খুলে ফেলি। জুতোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে আস্ত ত্রিকোণমিতি। মুখ তুলে দেখি মাধ্যমিকের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, বাবার হাত ধরে। কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে পড়ে যায় ক্লাস ফোরে হারিয়ে যাওয়া আধখাওয়া পেন্সিলটার কথা। মা খাটের তলায় ঢুকতে বারণ করেছিলো; তাই আজও সেই পেন্সিলটা নিখোঁজ। আমি নিষিদ্ধ আনন্দে শরীরটা ঢুকিয়ে দিই খাটের তলায়। আর তখনই সারাজীবনের সমস্ত পাপ আমাকে মৌমাছির মত ছেঁকে ধরে। আচ্ছন্ন হয়ে পড়তে পড়তে বুঝতে পারি, মায়েদের কথা শুনতে হয়! ...

25 এপ্রিল, 2021 · 1 মিনিট · 142 টি শব্দ · তরুণ কুমার জানা

বাড়ি

হাতে দু-চার পয়সা এলে একটা বাড়ি বানাবো। সেই বাড়ির বারান্দা থেকে ঢিল ছুঁড়লে তেপান্তরের মাঠে হারিয়ে যাবে; আর সকালবেলা বাজারের থলি হাতে বেরোলে পৌঁছানো যাবে কোনো এক অখ্যাত হল্ট স্টেশনে। সন্ধ্যেবেলা দূরের শহরতলিতে যখন টিমটিমে আলোগুলো জ্বলে উঠবে, তখন ফাঁকা স্টেশনের বেঞ্চে গিয়ে বসবো। চা-ওয়ালা দাদু হাতে ধরিয়ে দেবে মাটির ভাঁড়। সেই চায়ের চিনির মাত্রা এক-আধ দিন কম-বেশি হলেও ভালোবাসার কমতি হবে না কোনোদিন। রাত নেমে আসবে হিংস্র শ্বাপদের মতো। মায়ের ফোন আসবে বাড়ি থেকে। আমি চতুর্থ ভাঁড়টা সশব্দে ছুঁড়ে মারবো ইস্পাতের সমান্তরাল রেখাদুটোর মাঝখানে। ঠিক তার কয়েক মুহূর্ত পরেই না-থামার পরোয়ানা নিয়ে সদম্ভে ছুটে আসবে কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন। পোড়ামাটির টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়বে, আমার অধরা স্বপ্নের মতো।।

12 মার্চ, 2021 · 1 মিনিট · 107 টি শব্দ · তরুণ কুমার জানা